পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি ও যুবদলের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নাসির উদ্দিন মৃধা নামে এক খামারিকে অপহরণ, নির্যাতন এবং তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাদীপক্ষের আইনজীবী বজলুল হক বাদল মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার (০৬ জুলাই) পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিমের আদালতে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। মামলার বাদী নাসির উদ্দিন দাসপাড়া ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কৃষক ও গরুর খামারি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে আসামিরা পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে নাসির উদ্দিনকে অপহরণ করে বাউফলে নিয়ে আসেন। এরপর তার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে তথ্য পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
বাদী নাসির উদ্দিন জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এলাকায় ফিরতে পারছেন না।
তবে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার আসামী পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশ, দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
তারা বলেন, ‘মামলার বাদী নাসির উদ্দিন দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থক। তাই রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমরা কেউ জড়িত না।
এএস/এসআর