পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্যাকেজিং শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস। গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক’ কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কারখানাটির উদ্বোধন করেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস বিশ্বাস করে, ব্যবসা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যম নয়, বরং ইতিবাচক সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনেরও একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক সেই অঙ্গীকারেরই বাস্তব প্রতিফলন। পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে আমরা প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক শুধু একটি উৎপাদন কারখানা নয়; এটি উদ্ভাবন, দায়িত্বশীল ব্যবসা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ব্র্যাকের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতীক। এ উদ্যোগ একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে কারখানাটিতে প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ মেট্রিক টন পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং উৎপাদিত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় বছরে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন উৎপাদনের মাধ্যমে সমপরিমাণ প্রচলিত প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে, যা প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
ব্র্যাক জানায়, কারখানায় উৎপাদিত বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং পণ্য মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। যেখানে প্রচলিত প্লাস্টিক সম্পূর্ণভাবে পচে যেতে ২০০ থেকে ৫০০ বছর সময় লাগে, সেখানে এ প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার সাব্বির আহমেদ, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক প্লাস্টিক দূষণের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতিবছর ৪০০ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশই প্যাকেজিং খাতে ব্যবহৃত হয়। এ বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং শিল্পের প্রসার টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর