ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, চরফ্যাশনের ঘাটে শত শত ট্রলার আশ্রয়ে
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম
X Advertisement

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির কারণে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ২০টি মাছঘাটে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছে দেশের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার শত শত মাছ ধরার ট্রলার। উত্তাল সাগর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জেলেদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে সামরাজ মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ট্রলার সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘাটে মাছের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। ফলে মাছ ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ঘাটশ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

জেলেরা জানান, গত ১১ জুন ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নতুন আশায় সাগরে মাছ ধরতে নামেন তারা। কিন্তু প্রত্যাশিত ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ ট্রলার লোকসানের মুখে পড়ে। অনেকেই ঋণ করে আবার সাগরে গেলেও নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় দুই-তিন দিনের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

সামরাজ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই দফা সাগরে গিয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। পরে ঋণ করে আবার মাছ ধরতে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ফিরে আসতে হয়েছে। নতুন করে সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় জেলে ও ট্রলার মালিকদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

ট্রলার এফবি কাকলি-এর মাঝি নুর হোসেন বলেন, "সাগর এখন অত্যন্ত উত্তাল। সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরে এসেছি।"

বেতুয়া নতুন মাছঘাটের মাঝি হোসেন জানান, অধিকাংশ ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। গভীর সমুদ্রে থাকা আরও কিছু ট্রলার এখনও ফেরার পথে রয়েছে।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে মাছ ধরতে আসা মাঝি মামুন বলেন, "বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ শিকার বন্ধ রেখে আমরা নতুন মাছঘাটে আশ্রয় নিয়েছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার সাগরে যাব।"

চরফ্যাশন ঘাট মালিক সমিতির সভাপতি তারেক আজ্জি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় মালিকরা আগেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।

চরফ্যাশন উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার আপু বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শত শত ট্রলার ও হাজারো জেলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে সাগরে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বর্তমানে সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত উঠানামা করছে এবং ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা ও সমুদ্রে চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে না পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়বে। আবহাওয়ার এই বিরূপ পরিস্থিতি আরও চার থেকে পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসএফ/এসআর
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.

Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; 01550707297 Advertisement: 41053012; 01550707291, E-mail: [email protected] [email protected]
🔝