সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুই নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাখাওয়াত ইমতিয়াজ। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামের নুরুল ইসলাম (৫২) এবং সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার সজীব (৩২)। তাঁদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সিংগাইর উপজেলার একটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সজীব সাভার যুবলীগের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাভারের আনন্দপুর এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হলে দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার রাতে সাভার মডেল থানার তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির পূর্বঘোষিত জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত আলো চালু করা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
এজাহার অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৯টা ৪২ মিনিটে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চের সামনে ১০ থেকে ১৫ ফুট দূরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত লোকজন দিগ্বিদক ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
বাদীর অভিযোগ, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা, কর্মী-সমর্থক ও সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। মামলার এজাহারে বিস্ফোরণের পেছনে সংঘবদ্ধ একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে। তদন্তে যে-ই দোষী প্রমাণিত হোক, তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে আটক করে। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ওএফ/এসআর