খুলনায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ জুলাই) রাতে নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর এক বাবা ছেলে মো. মিরাজুল ইসলামকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার মুহতামিম শিশুটিকে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ, এমনকি গরু-ছাগল চরানোর কাজেও বাধ্য করতেন। এসব কাজে আপত্তি জানালে তাকে মারধর ও বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হতো।
শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, মিরাজুল প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসত। রবিবার বিকেলে তাকে বাড়ি নিয়ে আসতে মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে শিশুটির নানা মাদ্রাসার পাশেই তাকে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এবং অভিযুক্ত মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এবং শারীরিক শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা রত্না বেগম বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে রবিবার রাতে শিকলবন্দি অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
এসএমএস/এসআর