কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসে মিনহাজ (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় জান্নাতুল ফেরদৌস (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খুন্যাভিটার আলিম্মার ঝিরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিনহাজ ওই এলাকার বাসিন্দা কলিম উল্লাহর ছেলে। আহত জান্নাতুল ফেরদৌস একই এলাকার মৃত ছাবের আহমদের স্ত্রী এবং নিহত শিশুটির নানি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুর আলম জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। বিকেলে পাহাড়ের ঢাল থেকে একটি বড় গাছ ভেঙে তাদের বসতঘরের ওপর পড়ে। পরে জান্নাতুল ফেরদৌস তার নাতি মিনহাজকে নিয়ে ঘরের ওপর পড়ে থাকা গাছের ডালপালা সরানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে তাদের ওপর পড়ে। এতে দুজনই মাটিচাপা পড়েন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে গুরুতর আহত অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌসকে উদ্ধার করেন। তবে মিনহাজ মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘদিনের ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শিশুর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসইউ/আরএন