ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। অভিযোগ উঠেছে, পরিষদে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের পরই কয়েকজন যুবক সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের কাগজপত্র হাতে নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইছেন। সচিবের কক্ষের সামনে ও ভেতরে মানুষের ভিড় থাকলেও ওই যুবকদের বিভিন্ন আবেদনকারীর নথিপত্র নিয়ে দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।
পরিচয় জানতে চাইলে জনি নামে এক যুবক নিজেকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে তারা পরিষদে আসা মানুষকে সহযোগিতা করছেন।
তবে একাধিক সেবা প্রত্যাশীর অভিযোগ, সহযোগিতার আড়ালে এসব যুবক প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ দ্রুত করিয়ে দিচ্ছেন। যারা তাদের মাধ্যমে কাজ করছেন না, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন অভিযোগ করেন, তাদের কাগজপত্র দেখে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও টাকা না দিলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রেও প্রকৃত ফি কম দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
স্থানীয় শাপলা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা শাহিদা বেগম বলেন, ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েও প্রত্যয়নপত্র পাচ্ছেন না। তার অভিযোগ, কয়েকজন যুবক ২০ হাজার টাকা দিলে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তিনি দুই হাজার টাকা দিতে চাইলেও তারা রাজি হননি।
মেইটকা গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী জানান, বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সনদ নিতে এসে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কাজ করতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে। পরে বিষয়টি কয়েকজন ছাত্রদল কর্মীকে জানালে তারাও অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, “আমরা কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি—এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। বরং আগে যারা দালালি করে টাকা নিয়ে সেবা দিত, তাদের আমরা পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান বলেন, “নাগরিক সেবায় যেন কোনো ভোগান্তি না হয় এবং বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ বন্ধ থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন থেকে পরিষদের কার্যক্রম আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের প্রভাব ও অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করে সেবাগুলোকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ওএফ/এসআর