ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্যহাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা দিতে গহীন বনে ‘আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস’ বা এআই-নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরা স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের মহুয়া রেস্ট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে এ উদ্যোগ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরী বলেন, বন্যহাতি সংরক্ষণের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। এআই-নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরার মাধ্যমে হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করা সম্ভব হলে হতাহতের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন এলায়েন্সের কমিউনিটি গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট আবরার আহমাদ। তিনি বন্যহাতি-মানুষ সংঘাত নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এতে বক্তব্য দেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম, বন্যহাতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান।
সেমিনারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক, শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সাদেক আলী খান, মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলীসহ বন বিভাগ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/এসআর