নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই), দুই কনস্টেবল ও পুলিশের এক সোর্স। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মনারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, আহতরা হলেন সোনারগাঁও থানার এসআই মো. সুরুজ্জামান মিয়া, কনস্টেবল শাহিন আলম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম এবং পুলিশের সোর্স মাসুম মিয়া। আহত পুলিশ সদস্যদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত মাসুম মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত এসআই মো. সুরুজ্জামান মিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান ছিনতাই মামলার আসামি সাগরকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তিনি দুই কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় সাগর ও তার ভাই সজল ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালালে তিন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের সোর্স আহত হন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ভাই সাগর ও সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় তাদের পুলিশ হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। এতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব বলেন, আহত তিন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের গুরুতর ক্ষত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার বলেন, মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাই সাগর ও সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুই ভাই ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
এইচএমআর/এসআর