যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ইরান সফর করছেন।
শুক্রবার তেহরানে ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের স্পিকার বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার কয়েক শতাব্দীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, গভীর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক বন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানি জনগণ এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সব বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান সম্ভব। এ সময় তিনি স্পিকার গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরবর্তীতে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে ইরানও বিভিন্ন আরব দেশে পাল্টা হামলা চালায়। তেহরান জানায়, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে তারা বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।