রাজধানীর জলাধারগুলোতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ। সম্প্রতি ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় এই কচ্ছপকে রোদ পোহাতে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। গবেষক ও পরিবেশবিদরা বলছেন, শখের বশে আনা এই কচ্ছপ এখন ধীরে ধীরে বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যা দেশের জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ মূলত আমেরিকা মহাদেশের মিঠাপানির আধা-জলজ একটি প্রজাতি। আকর্ষণীয় রঙ ও সহজে পোষ মানার কারণে এটি অ্যাকুয়ারিয়াম পোষা প্রাণী হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও অর্ধ-নিয়ন্ত্রিতভাবে এই প্রজাতির বাণিজ্য চলছে। অনেকেই শখের বশে অ্যাকুয়ারিয়ামে রেখে পরে বড় হয়ে গেলে নদী, খাল বা পুকুরে ছেড়ে দেন।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কচ্ছপ দেশে আসছে মূলত বিমানবন্দর, নৌপথ বা স্থলপথে বিভিন্নভাবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পোষা প্রাণী হিসেবে আনার পর পাচারের ঘটনাও ঘটে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখার পর অনেকে অবহেলা বা অজ্ঞতাবশত এসব প্রাণী জলাশয়ে ছেড়ে দেন, যা পরবর্তীতে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করে।
গবেষকদের মতে, রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ ছোট অবস্থায় তুলনামূলকভাবে নিরীহ হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি সর্বভুক হয়ে ওঠে। জলজ উদ্ভিদ, ছোট মাছ, কীটপতঙ্গসহ নানা ধরনের প্রাণী খেয়ে ফেলার কারণে স্থানীয় প্রজাতির খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ইতোমধ্যে রাজধানীর কিছু জলাশয়ে এদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, এই প্রজাতি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জলাশয়ে মিশে গেছে। এর ফলে আমাদের দেশীয় জলজ আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এটি বিস্তৃত হয়ে পুরো দেশের জলজ পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকরা আরও সতর্ক করেছেন যে, রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া বহন করতে পারে, যা মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই এটিকে প্রাকৃতিক জলাশয়ে না ছাড়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।
সব মিলিয়ে শখের বশে আনা একটি বিদেশি প্রজাতি এখন বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ জলজ পরিবেশে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত নীতি ও নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাই করছেন বিশেষজ্ঞরা।