ঢাকার মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের প্রধান কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে বগুড়ায় একতা পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছেন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিকরা।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত ৭ মে মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের প্রধান কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গত ১ জুলাই বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সকালে বগুড়ায় একতা পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করে দেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত বগুড়ায় একতা পরিবহনের কাউন্টারও বন্ধ থাকবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের চালক উজ্জ্বল বলেন, মহাখালী কাউন্টার বন্ধ থাকায় গত দুই মাস ধরে চালক-শ্রমিকরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। কাউন্টার চালু হলে তারাও একতা পরিবহনের কাউন্টার খুলে দেবেন।
আরেক চালক মানিক বলেন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতির আশ্বাসে তাদের আর আস্থা নেই। দ্রুত মহাখালী কাউন্টার চালু না হলে উত্তরবঙ্গগামী বাস চলাচলেও কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে দুই পরিবহনের বিরোধে সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সামছুজ্জামান বলেন, কাউন্টার বন্ধের ঘটনা দুই পরিবহনের মালিকপক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের ফল। তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ শ্রমিক ও যাত্রীদের ওপর। দুই প্রতিষ্ঠানের হাজারো শ্রমিক আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন।
তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৭ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কাউন্টার খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে শ্রমিকরা জানিয়ে দিয়েছেন, মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার চালু না হওয়া পর্যন্ত তারা একতা পরিবহনের কাউন্টার খুলতে দেবেন না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
-টিএস