খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতি (১৬) প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়েছেন।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত তার পরিবারের কোনো সদস্যেরও সন্ধান পায়নি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ কোনো আলামত না পাওয়ায় পুরো ঘটনাকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, ইতি নগরীর রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা এবং জুলফিকার আলীর মেয়ে। শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে তিন বন্ধু ও এক ভাবির সঙ্গে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিটি তার বাম পায়ের হাঁটুর চামড়া ভেদ করে বের হয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহত ইতিকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একটি বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তবে পরে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে তার ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজ বাড়িতেও ফেরেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সকালে ও দুপুরে দুই দফা ইতিদের বাড়িতে যায় পুলিশ। তবে বাড়ির মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসের শেষ দিকে সোহেল নামের এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান ইতি। এ ঘটনায় ২৮ জুন তার ভাবি বৃষ্টি আক্তার খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে চট্টগ্রাম মহানগরের কর্ণফুলী থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করে। গত ২ জুলাই পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, ইতি খুলনার এক পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন। তবে এই তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একই সূত্রের ভাষ্য, মূলত সোহেলকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
খুলনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর ইতির ভাবি ও তিন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন যুবক ইতিকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো গুলির খোসা বা অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা রয়েছে। তারা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”
এসএমএস/এসআর