ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক স্কুলছাত্রের ছুরিকাঘাতে মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৭) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণিভর সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নয়ন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এবং ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিক লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ফুলবাগিচা এলাকার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে এবং আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ আল মানিকের সঙ্গে ইব্রাহিম খলিল নয়নের পূর্ববিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বর্ণিভর সড়ক এলাকায় নয়নের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মানিক। এ সময় নয়নকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মো. আরমান ও মো. আশরাফকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরমান ও আশরাফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে নিহত নয়নের সহপাঠীরা লালমোহন থানার সামনে জড়ো হয়ে দ্রুত বিচারের দাবিতে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মূল অভিযুক্ত আটক রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এইচপি/ এসআর