বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়ছেন, তিনি সব বাধা ও ঝুঁকি মোকাবিলা করে ২০২৬ সালের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকার পতনের পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডকে “অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার দল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা অতীতেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা ব্যর্থ হবে।
গত নভেম্বর ঢাকার একটি আদালত ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে উসকানি, হত্যার নির্দেশ এবং সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তার এই পরিকল্পনা।
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কোনো “কাগুজে সংগঠন” নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি।
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান—আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আবারও দৃঢ়ভাবে জানান, “সব বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমি এ বছরই দেশে ফিরব।”