প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যা চেষ্টার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ জিকে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ ওরফে হাফিজ নিমুকে (৪৪) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন এবং জিকে গউছের আইনজীবী সফিউল আলম।
আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জিকে গউছকে খালাস দেন। অন্যদিকে, হাফিজ নিমুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী, জিকে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জিকে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলাটিতে মোট ১২৩ জন সাক্ষী ছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
-টিএস