📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
এবি এম আবদুল্লাহর এমেরিটাস নিয়োগ বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করল বিএমইউ
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম
X Advertisement

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন (ইমেরিটাস) অধ্যাপক পদে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এ সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে বিএমইউ জানায়, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক প্রক্রিয়াগত, প্রশাসনিক ও আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর বর্তমান সিন্ডিকেট নিয়োগটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক আবদুল্লাহকে তিন বছরের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তিনি মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী ও সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা পেতেন।

তবে ২০২৪ সালের ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাদেশ সংশোধন করে তাঁকে আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বশেষ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, অফিস ও জনবলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা অনুমোদন করা হয়।

বিএমইউর দাবি, বাজেট অধিবেশনের মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন এবং একই সভায় অধ্যাদেশ সংশোধন করে তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধা কার্যকর করা প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া এ বিষয়ে অর্থ কমিটির কোনো সুপারিশ বা আর্থিক বিশ্লেষণের নথিও পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশ, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে প্রস্তাব পাঠানো, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং সেই কমিটির সুপারিশ গ্রহণের বিধান থাকলেও অধ্যাপক আবদুল্লাহর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়োগ পাওয়ার পর প্রায় দুই বছরে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, পাঠদান বা গবেষণার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন কি না সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য দেননি। তবে এ সময় তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে এ খাতে তিনি আনুমানিক সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি অর্থ নিয়েছেন।

বর্তমান সিন্ডিকেট গত ১৩ জুনের সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে ২০২৪ সালের ২৪ জুনের আজীবন ইমেরিটাস নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত বিবেচনায় বাতিল করে। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, বিধি অনুযায়ী কোনো নিয়োগ পরবর্তীতে আইনগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে বাতিল হলে ওই নিয়োগের ভিত্তিতে দেওয়া আর্থিক সুবিধাও পুনরুদ্ধার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই অধ্যাপক আবদুল্লাহকে বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষের দাবি, এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা।

-টিএস
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; 01550707297 Advertisement: 41053012; 01550707296

E-mail: [email protected] [email protected]
🔝