বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল এবং উত্তোলিত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য এই চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘৫০ বছরের চিকিৎসা জীবনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে এসেছি। কর্মজীবনে ১৪-১৫টি আন্তর্জাতিক ও একাডেমিক পুরস্কারের পাশাপাশি ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড এবং রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছি। বিশ্ব বা বাংলাদেশের ইতিহাসে আজীবন সম্মানসূচক নিয়োগ বাতিলের এমন নজির নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আচরণ আমাকে সামাজিকভাবে চরমভাবে অপমানিত করেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণীজনদের সম্মানসূচক পদমর্যাদা এভাবে বাতিল করার কোনো নিয়ম নেই। আর্থিক বিষয় নয়, বরং সম্মানহানির ঘটনাই তাকে বেশি ব্যথিত করেছে।
তার ভাষায়, ‘এ পদে সম্মানীর পরিমাণ খুবই সামান্য ছিল। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন সিদ্ধান্ত আমাকে সামাজিকভাবে অপমানিত করেছে।’
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে সিন্ডিকেট কমিটির একজন সদস্যের আপত্তির কারণে তার আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি এ যুক্তিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করেন।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজীবন সম্মানসূচক নিয়োগ এভাবে বাতিল করার কোনো নিয়ম বা নজির বিশ্বে নেই। পুরো বিষয়টি আমার দীর্ঘ কর্মজীবন, সততা ও অবদানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা বা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্মানহানি এবং সুযোগ-সুবিধা কুক্ষিগত করার একটি হীন প্রচেষ্টা।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধনের মাধ্যমে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সিদ্ধান্ত ছিল বিধিবহির্ভূত। তাই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময় থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে উত্তোলিত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
-টিএস