চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে ঘটনার মাত্র ১০ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার একমাত্র আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন রাতে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বাড়িতে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের আরও এক শিশু সদস্য গুরুতর আহত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পরদিন পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং নিহতদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলায় চারজন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মা ও মেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আহত শিশুর মাথায় গুরুতর আঘাতের তথ্যও চিকিৎসা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
-টিএস