লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্রী মুর্শিদা আক্তার নিশি দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। মেয়েকে খুঁজে পেতে আকুতি জানিয়েছেন তার মা ছকিনা বেগম।
এদিকে ২১ দিন আগে, ৩ জুন একটি ইমো আইডি থেকে নিশি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে। তখন নিশি তার মাকে জানায়, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। ঘর থেকে বের হতে না পারায় সে কোথায় রয়েছে তা বলতে পারেনি।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোথাও নিশির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, নিশি কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। ২২ এপ্রিল সকালে সে কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি।
নিশির বরাত দিয়ে তার মা ছকিনা বেগম বলেন, কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন নিশি তোরাবগঞ্জ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। পথে অটোরিকশাটি বিকল হয়ে গেলে চালক তাকে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সূতারগোপ্টা এলাকায় নামিয়ে দেন। পরে সে অন্য একটি অটোরিকশায় ওঠে। ওই অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় কেউ তার মুখে স্প্রে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।
নিশির চাচা আবুল বাশার বলেন, নিশি ইমোতে কল দিয়ে জানিয়েছে যে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। এক নারী তাকে খাবার দিতে আসে। ওই নারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিশি ইমোতে কল দিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানিয়েছে। দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো মেয়েটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিশিকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবীর বলেন, ২২ এপ্রিল কলেজছাত্রী নিশি নিখোঁজ হয়। ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। মেয়েটি ইমোতে তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে জানা গেছে। তবে ইমোতে কথা বলার কারণে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে অপহরণের শিকার হয়নি।
আরএইচ/আরএন