বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ড (বিটিটিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের ২৭ বছর পুরোনো দুর্নীতির মামলায় তিন সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় মোট ৪৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদিকুর রহমান খান। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি জানান, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় পৃথক সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায়ে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪২০ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সব মিলিয়ে মোট ৪৪ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আইন অনুযায়ী সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিটিবির বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদ হোসেন ২৪টি চেকের অঙ্ক পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ওই অর্থ ক্যাশবুকে প্রদর্শন বা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।
তদন্তে উঠে আসে, তৎকালীন বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন।
ঘটনার পর ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ২০১৪ সালের ৮ জুন আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
-টিএস