অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ১৬টি ভুয়া ওয়েবসাইট এবং চার শতাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে। এসব ওয়েবসাইট মূলধারার গণমাধ্যমের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ভুয়া ওয়েবসাইট ও অ্যাকাউন্ট শনাক্তসংসদে দেওয়া তথ্যমতে, মূলধারার সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের ওয়েবসাইটের আদলে অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট।
এছাড়া বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারে জড়িত ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টির বেশি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও শনাক্ত করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক কার্যক্রম ও প্রকাশনাতথ্যমন্ত্রী জানান, অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে বাংলাফ্যাক্ট এ পর্যন্ত ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও এবং রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশ করা হয়েছে ২২৯টি।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি ভাইরাল দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল আকারে প্রকাশ করছে।
সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুজব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগের অংশ হিসেবে পিআইবি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১২৩টি প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ৯৭৭ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
এর মধ্যে বর্তমান সরকারের সময় ১০টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩৬৫ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল ও গবেষণাতথ্যমন্ত্রী আরও জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের দৈনন্দিন কাজে সহায়তার জন্য পিআইবি শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করবে।
এছাড়া গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও চরিত্রহননের কৌশল নিয়ে ‘শিকারী সাংবাদিকতা’ শীর্ষক একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থও প্রকাশ করেছে পিআইবি।
-টিএস