কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বন্দিদের জন্য নগদ টাকার ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। বন্দিদের আত্মীয়স্বজন কারাগারে এসে যে অর্থ জমা দেবেন, তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট বন্দির ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে। পরে বন্দিরা আরএফআইডি কার্ড ব্যবহার করে কারা ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ব্যবস্থার ফলে কারাগারের ভেতরে বন্দি ও কর্মীদের মধ্যে নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
আরএফআইডি প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান শনাক্ত করা ছাড়াও ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দিদের নির্ভুল গণনা এবং নিরাপত্তা তদারকি সহজ হবে বলে জানিয়েছে কারা প্রশাসন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে গ্রহণ করা অর্থ হিসাবভুক্ত করে বন্দির কার্ডে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স হিসেবে যুক্ত করা হবে। পরে সেই অর্থ ব্যাংকে জমা করা হবে। বন্দিরা কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট করে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কোনো বন্দির অ্যাকাউন্টে অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা অনলাইন ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।
কারা প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমবে, বন্দিদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং কারা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ‘ডিকোড ল্যাব’ এবং কারা অধিদপ্তরের প্রিজন্স আইসিটি সেল।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও স্বচ্ছ কারা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বন্দিদের জন্য আধুনিক ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে মুন্সীগঞ্জে চালু হওয়া এ মডেল সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কারাগারেও বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
টিএস