যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জারি করা সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকোম জানায়, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের আসা-যাওয়া ও চলাচলে মার্কিন বাহিনী আর কোনো বাধা দেবে না। পূর্বে জারি করা সামরিক অবরোধও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়- ‘ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজের আসা-যাওয়া ও চলাচলে আর বাধা দেবে না মার্কিন বাহিনী। যেসব সামরিক অবরোধ জারি করা হয়েছিল, তার সবই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আরোপিত সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া।
তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রণালিটিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় প্রণালির বিভিন্ন স্থানে জলমাইনও স্থাপন করা হয়।
সমঝোতা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি তেহরান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন- চুক্তি স্বাক্ষরের পর টানা দুই রাত হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষ্য- ‘এখন পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।’
ভ্যান্স দাবি করেন, গত দুই রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে, যেগুলোতে মোট প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানিপণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
টিএস