মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টির পানি নামতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন দিন, কোথাও কোথাও তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার বিকাল থেকে হওয়া বৃষ্টিতে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ সূর্য সড়ক, কালিবাড়ী সড়ক ও কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং যত্রতত্র জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে। পুরনো ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না।
পুরান বাজার এলাকার পথচারী রাব্বি মৃধা বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা চলা করা কঠিন হয়ে গেছে। চারপাশে শুধু পানি। কেনাকাটা করতে এসে বিপাকে পড়েছি।”
পানিছত্র এলাকার বাসিন্দা লুবনা আক্তার বলেন, “এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই দুই থেকে তিন দিন পানি জমে থাকে। ভোগান্তির শেষ নেই।” একই এলাকার ডা. অখিল সরকার বলেন, “১৫ বছর ধরে এখানে থাকি, তবে গত দুই বছর ধরে বৃষ্টির পরই জলাবদ্ধতা নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার পুরান বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—হামিদ আকন্দ সড়ক, কালিবাড়ী রোড, মিলন সিনেমা সড়ক, শহীদ মানিক সড়কসহ প্রায় সব প্রধান সড়কই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ায় প্রতিদিন বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
ইজিবাইক চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাস্তায় পানি আর খানাখন্দ মিলিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।” জুতার দোকান ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, “পানির কারণে দোকানে ক্রেতা আসছে না, ব্যবসা প্রায় বন্ধের পথে।”
মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক মোসা. জেসমিন আকতার বানু বলেন, “ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই পলিথিনে করে ময়লা ড্রেনে ফেলছেন, ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পৌরসভার কর্মীরা কাজ করছেন, আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে। পাশাপাশি একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে, যা সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।”
এএইচএস/এসআর