ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
দৌলতপুরে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, ২ কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিব বহিষ্কার
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫২ এএম
X
Advertisement

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ এর প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ভুল (২০২৫ সালের সিলেবাসে) প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও, ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। 

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্র সচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শক বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ও ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সাথে সাথে পরিদর্শকদের অবগত করেন এবং প্রশ্ন পরিবর্তন করে দিতে বলেন । কিন্তু পরিদর্শকরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে বরং তাদের ধমক দিয়ে পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর  নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টা সময়ের বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।

বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ তাৎক্ষণিক কেন্দ্রে উপস্থিত হন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। ঘটনার প্রমাণ পাওয়ায় তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী, কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে অব্যাহতি দেন। 

ওই ১৭ জন শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল এন্ড কলেজের।

এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেন, 'এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে চরম অবিচার। একজন পরীক্ষার্থীর কাছে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ার পর মাত্র আধা ঘণ্টা ক্ষতিপূরণ কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যা শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি করেছে।'

ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী বলেন, 'প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুলটি হয়েছে। বিষয়টি জানা মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটি অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল ছিল, তারপরও প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, 'পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন অবহেলা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। খবর পাওয়া মাত্রই আমি কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে যে অবিচার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বোর্ডের সাথে কথা বলে ওই শিক্ষার্থীদের রোল নাম্বারগুলো সংশ্লিষ্ট বোর্ডের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।'

এসআই/এমএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement