নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী নিপা আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত নিপা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মোহাম্মদ তারা মিয়ার মেয়ে। তিনি মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কলেজে পরীক্ষা শেষে বুধবার বাড়ি ফেরার পথে বিকাল চারটার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার পানুর গ্রামে মোহনগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিপা গুরুতর আহত হন। পরে রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে বুধবার নিপার একটি পরীক্ষা ছিল। সকালে মা ফরিদা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে যান তিনি। বিকালে পরীক্ষা শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন নিপা ও তার মা। পথে উপজেলার পানুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাক তাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধানখেতে ছিটকে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা নিপা ও তার মা ফরিদা আক্তারের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকা নেওয়ার পথেই নিপার মৃত্যু হয়। আর ফরিদা আক্তারকে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর অটোরিকশা ও ট্রাক ফেলে চালকরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
নিপার বড় ভাই রুহুল আমিন বলেন, ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা নেওয়ার পথেই নিপার মৃত্যু হয়। মায়ের অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এসআই/আরএন