ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর তৎপরতা শুরু হয়েছে খুলনার বিএনপি নারী নেত্রীদের। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য নিজেদের রাজনৈতিক প্রোফাইল তৈরি করে যোগাযোগ ও দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন নারী নেত্রীরা।
খুলনা-বাগেরহাট সংরক্ষিত আসনের জন্য বেশ কয়েকজন নেত্রীর নাম উঠে এসেছে। তারা আন্দোলন-সংগ্রামে অবদানের বিষয়টি তুলে ধরে বিভিন্ন ভাবে শীর্ষ নেতাদের মনযোগ কাড়তে চেষ্টা করছেন।
ইতোমধ্যেই যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে- তাদের মধ্যে আছেন সাবেক এমপি, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর মহিলা দলের আহ্বায়ক সৈয়দা নার্গিস আলী।
তিনি এর আগে সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। পরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় মহিলা দল প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পান। এবারও মনোনয়ন পেতে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুব্জ। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এই নেত্রী বলেন, 'গ্রীণ সিগন্যাল পেলে তিনি ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।'
তালিকায় রয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা রেহানা আখতার (রেহানা ঈসা)। তিনি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খ্যাতিমান সাংবাদিক মরহুম সৈয়দ ঈসার সহধর্মিণী। খুলনার রাজনীতিবীতে রেহানা ঈসা নামেই পরিচিত।
দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রেহানা ঈসা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত এবং বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা। বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে এবং রাজপথে উভয় জায়গায় দক্ষতা দেখিয়েছেন, আন্দোলনে রাজপথ থেকে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। ফলে দল তার এই অবদানের মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদী তার অনুসারীরা।
জানতে চাইলে রেহানা ঈসা বলেন, 'তার স্বামী সৈয়দ ঈসা খুলনার সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনিও বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন এবং আছেন। কাজেই যোগ্যতার ভিত্তিতে দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদী।'
খুলনা রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত নেত্রী নিঘাত সীমা একাধিকবার হামলা-মামলায় কারাবরণ করেছেন। এবারও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় তিনি রয়েছেন। জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের খুলনা মহানগর আহ্বায়ক ছিলেন। ছিলেন নগর বিএনপির সদস্য। ওয়ান ইলেভেনের সময় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তৎকালীন সময় সংস্কারপন্থী মান্নান ভূঁইয়া ও আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝাঁড়ু মিছিল করে তাদের খুলনায় অবাঞ্ছিত করেছিলেন। যা তখন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হওয়া দেশজুড়ে আলোচনা আসেন সীমা। মহিলা দল মহানগর আহ্বায়ক কমিটির ৫ নং সদস্য সীমা।
২০০২ সালে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালিয়েছিলেন। তখন দলের শীর্ষ নেতাদের নজরে আসেন তিনি। এবারের আলোচনার রয়েছেন এ নেত্রী।
তার অনুসারীদের দাবি, সীমা দলের দুঃসময়ের মাঠ ছাড়েননি। তাকে এবার মূল্যায়ন করবে হাইকমান্ড।
ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে আসা আজিজা খানম এলিজার নামও রয়েছে আলোচনায়। স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। সরকারি পাইওনিয়ার মহিলা কলেজের দুই দফা ভিপি তিনি। খুলনা মহানগর মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যও ছিলেন। কয়েক দফা রাজপথে হামলায় আহত হয়েছেন। পেশায় শিক্ষিকা এই নারী নেত্রী বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক সংস্থার সাথে জড়িত। নগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে তার রয়েছে সুসম্পর্ক। তরুণ নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে তার সম্ভাবনা রয়েছে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক দুইবারের ভিপি ফারজানা রশিদ লাবনী প্রার্থীতার দাবিদার। তিনি খুলনায় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী মহিল দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা ছিলেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লাবণ্য’র নির্বাহী পরিচালিকা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করছেন, দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। পেশাজীবী সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)'র কাউন্সিলরও তিনি। দেশের খ্যাতিমান সাংবাদিকদের সাথে তার সুসম্পর্ক। যে কারণে সাংবাদিকদের সমাজে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে।
রাজপথের আন্দোলনে ও মামলার নিউজ কাভার করার সুবাদে বেগম খালেদা জিয়ার নৈকট্য লাভ করেন লাবনী। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি সামনে এনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তিনি।
সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে খুলনায় চলছে প্রতিযোগিতা। শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড কাকে মনোনয়ন দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জানতে চাইলে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, 'কয়েকজন নারী নেত্রী আমাদের কাছে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তাদের বিগত দিনের আন্দোলন- সংগ্রামের অবদান ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করে দলীয় হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।'
এসএম/এমএ