কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ধানখেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। কেটে সাবাড় করছে বিঘার পর বিঘা জমির ধানগাছ। ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি সেচনির্ভর বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকরা ধান চাষ করেছেন ২৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যায় প্রতিটি ধানগাছ থেকে পর্যাপ্ত কুশি বের হয়ে অল্পদিনেই জমি ঢেকে যায়।
ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে ধানগাছে থোড় এসেছে। কিছু জমির ধানখেতে শীষও বের হয়েছে। ঠিক এ সময় চৈত্রের টানা বৃষ্টিতে ফসল আরও সতেজ হয়ে ওঠে। জমিতে পানি জমে। ভালো ফলনের আশায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন কৃষকরা। কিন্তু দ্রুতই সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসে ইঁদুরের উপদ্রবে।
স্বাভাবিকের চেয়ে বড় আকারের ইঁদুরগুলো জমির পর জমিতে আক্রমণ চালিয়ে ধানগাছের গোড়া কেটে ফেলছে। একেকটি গোছায় একটি-দুটি ধানগাছ রেখে বাকিগুলো কেটে দিচ্ছে। পরদিন খেতে গেলেই দেখা যায়, ইঁদুরে কাটা ধানগাছ জমিতে পড়ে আছে। প্রতিদিনই এ ক্ষতি বাড়ছে। দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখা যায়।
জমির আইল ঘুরে ইঁদুরের গর্ত বন্ধ করেও তাদের দমন করা যাচ্ছে না। কৃষক ফিরে গেলে নির্জনতা পেলে তারা আবার গর্ত তৈরি করে। মনের আনন্দে ধানগাছ কাটছে। কোনোভাবেই এ আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না।
উপজেলার সর্বত্র ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। এ অবস্থায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকের কপালে আরও স্পষ্ট হচ্ছে চিন্তার ভাঁজ।
পৌরসভার পূর্ব সাঞ্জুয়ারভিটার বিনোদ চন্দ্র জানান, তার ৬ বিঘা জমিতেই ইঁদুরের আক্রমণ হয়েছে। আইলের গর্ত বন্ধ করেও এ আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ওষুধ ছিটাচ্ছেন।
প্রায় একই ধরনের কথা বলেন বামনডাঙ্গা তেলিয়ানীর ওসমান গণি, নুনখাওয়ার মো. ওছমান, মাহবুবুর রহমান, ফারুক হোসেন, মাসুদ রানা, পৌরসভার বানিয়াপাড়া গ্রামের সুভাষ চন্দ্র, মোজাফফর হোসেন, ভিতরবন্দ ডাকনিরপাঠের নুরজামান মিয়াসহ অনেক কৃষক। তারা জানান, চোখের সামনে তাদের খেতের ধানগাছ কেটে ফেলছে ইঁদুর। অনেক চেষ্টা করেও এ আক্রমণ ঠেকাতে না পেরে তারা আতঙ্কিত ও হতাশ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, ধানক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব দমনে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। গর্তে পানি বা ধোঁয়া দেওয়া, বাঁশের কেল্লা বা ফাঁদ ব্যবহার এবং লাইভ ট্র্যাপ বা বিষটোপ ব্যবহারের মাধ্যমে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া ক্ষেতের আইল ছোট ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ইঁদুরের উপদ্রব অনেকটা কমে যায়। যেসব জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ হয়েছে, সেখানে এসব ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কেএস/আরএন