লক্ষ্মীপুরে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে শহরের চকবাজার এলাকায় জেলা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডব্লিউএফ)সহ বিভিন্ন ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ), লক্ষ্মীপুর আধুনিক হাসপাতাল এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যানারে অনেকেই অংশগ্রহণ করেন।
এতে বক্তব্য রাখেন আইবিডব্লিউএফ’র জেলা কমিটির সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন মাহমুদ, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, শহর সভাপতি নাসির উদ্দিন, বিপিএইচসিডিওএ’র সহ-সভাপতি নুরুল হুদা ও ব্যবসায়ী শামছুল ইসলাম প্রমুখ।
ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতা নিজাম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমাদের সভাপতি শহিদুল্লাহ নামাজ পড়ে বের হতেই তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত হামলা। তাকে বুকে লাথি মারা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আশা করি প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করবে।
বিপিএইচসিডিওএ’র নেতা নুরুল হুদা বলেন, আধুনিক হাসপাতালের ডিএমডি শহিদুল্লাহ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চকবাজার এলাকায় তার অফিস রয়েছে। প্রতিদিনের মতো তিনি চকবাজার মসজিদে আসর নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় তার ওপর হামলা হয়। একটি কুচক্রী মহল লক্ষ্মীপুরকে অশান্ত করতে চায়।
ব্যবসায়ী শামছুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহিদুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়েছে। ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করে সুন্দর পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে জুলাই ফাইটার্স ও ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান নিরব বলেন, ভিডিওতে দেখা গেছে শহিদুল্লাহসহ কয়েকজন মুসল্লিদের মারতে তেড়ে যান। তাদের সহযোগীরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে মুসল্লি ও বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিহত করেন।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী নেতা হাবিবুর রহমান ফাহিমকে মারধর ও জুলাই ফাইটার্সের নেতা আকবর হোসেন মুন্নার ওপর হামলার অভিযোগে দুই পক্ষ রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে শহরের চকবাজার এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়। এ সময় বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সদর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ ঘটনায় বাজারে মাইকিং করা হয়।
এরপরও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরে মিছিল করে। এসব ঘটনার মধ্যে ব্যবসায়ী শহিদুল্লাহ মারধরের শিকার হন।
আরএইচ/আরএন