খুলনায় ইজিবাই ছিনিয়ে নিতে তিন বন্ধু পরিকল্পনা করে হত্যা করে চালক রানা হাওলাদারকে। গতকাল মঙ্গলবার এমন তথ্য জানিয়ে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে ঘাতক রাব্বি ও মিরাজ। পরবর্তীতে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, রানা হাওলাদার ভাড়ায় ইজিবাইক চালত। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রানা। কিন্তু আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে তার স্ত্রী থানায় জিডি করে। শুরু হয় তদন্ত। গ্রেপ্তার হয় ৩ আসামি।
তিনি আরও জানান, রানা হওলাদার একজন মাদকাশক্ত। মিরাজ, রাব্বি ও বিপ্লব তার বন্ধু ছিল। রানার ভাড়ায় চালিত ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অপর ৩ বন্ধু পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ি ইয়াবা সেবনের জন্য রানাকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে মিরাজ ফোন দেয় এবং তার কাছ থেকে কেনার জন্য ৩০০ টাকা নেয়।
রাব্বি এবং রানা রেলিগেট সংলগ্ন এডামর্সের পাশে পরপর তিনটি দেওয়াল পার হয়ে নদীর ঘাটে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ইয়াবা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে মিরাজ। প্রথম টান দেওয়ার পর মিরাজ রানাকে ইজিবাইক দেওয়ার কথা বললে অস্বকৃতি জানায়। এরপর প্রকৃতির ডাকে সাড়ার কথা বলে কোমর থেকে বেল্ট খুলে রানার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বেল্ট ও রানার মোবাইলটিও তারা নদীতে ফেলে দেয়।
তিনি আরও জানান, ইজিবাইকটি নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় আকবরের গ্যারেজে নিয়ে আসে রাব্বি ও মিরাজ। কিন্তু ইজিবাইক দেখে সন্দেহ হলে তা তিনি না নিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে ইজিবাইকটি রাস্তার ওপর ফেলে যে যার মত চলে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসে এবং প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয় ইজিবাইক। নিখোঁজ চালক রানার তদন্ত শুরু করে কর্মকর্তা। স্থানীয় সোর্স ও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সোমবার মানিকতলা থেকে রাব্বি এবং পরে যশোরের খাজুরা থেকে মিরাজকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য চালক রানাকে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের অপর সহযোগি বিপ্লবকে মঙ্গলবার রাতে মানিকতলা থেকে বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাব্বি ও মিরাজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এসএমএস/এসআর