বরগুনায় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিক নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় এসেছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, তৃণমূল সম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে যেসব নাম বিশেষ ভাবে উচ্চারিত হচ্ছে তারা হলেন- নূর শাহানা হক, আসমা আজিজ, অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু, অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই, শারমিন সুলতানা আসমা, নাজমুন নাহার পাপড়ি, অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা ও আমতলীর মীরা খান।
দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে নূর শাহানা হক বরগুনাবাসীর কাছে পরিচিত। তিনি বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। অবসর গ্রহণের পর পূর্ণ সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। শিক্ষা বিস্তার, নারীর ক্ষমতায়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয় ভাবে তাকে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক আসমা আজিজ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সক্রিয়। শিক্ষাজীবন থেকেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আইনগত জ্ঞান এবং নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা বিষয়ক কাজের কারণে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।
আইন পেশায় সুপরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপুও সংরক্ষিত মহিলা আসনের আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা প্রদান এবং নারী-শিশু সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটে সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় পর্যায়ের আইনগত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন সুলতানা আসমা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় ভাবে তাকে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী নারী নেতৃত্ব হিসেবে নাজমুন নাহার পাপড়ির নামও আলোচনায় রয়েছে। সামাজিক কর্মকাণ্ড, নারী সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিত করে তুলেছে। দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে স্থানীয় ভাবে তার পক্ষে সমর্থন গড়ে উঠছে বলে জানা গেছে।
পাথরঘাটা উপজেলার কৃতিসন্তান অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা বর্তমানে ঢাকা নারী ও শিশু আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন পেশার পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রাম ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন। নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
আমতলী উপজেলার কৃতি সন্তান মীরা খান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাঠপর্যায়ে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তৃণমূল সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তার পিতা মরহুম জাফর আলী খান আমতলী উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চিলেন। আমতলীবাসী তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে দেখতে চায়।
বরগুনায় সংরক্ষিত মহিলা আসন ঘিরে একাধিক যোগ্য নারী নেতৃত্বের সক্রিয়তা জেলার রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা- যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে যিনি মনোনয়ন পাবেন, তিনি যেন বরগুনার নারী সমাজের অধিকার, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
এসকে/এমএ