এই মুহুর্তে খুলনাসহ সারাদেশে একটি আলোচার নাম আলি আসগর লবি। কারণ, তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ভোটে হারিয়ে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে সংসদ সদস্য নিবার্চিত হয়েছেন। ফলে তাকে নিয়েই এখন সব জায়গায় আলোচনা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। লবির জয় লাভের বিষয়টিকে মানতে পারছেননা জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
জলাবদ্ধতা নিরসন, বেড়িবাধঁ নির্মাণ ও সংস্কারসহ টেকসই উন্নয়ন, আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম, আধুনিকমানের রেষ্ট হাউজ, আইটি পার্ক নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার লবির।
২০০১ সালের নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে জয় লাভ করার পর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে আলি আসগর লবি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সফলতার সাথে সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা করেছেন। আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা আয়োজনে খুলনায় আধুনিক বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছেন। তার সময়েই খুলনায় আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচিত হওয়ার পর এই সংসদ সদস্য বিল ডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব দেবেন। এছাড়া, বেড়িবাধঁ নির্মাণ ও সংস্কারসহ টেকসই উন্নয়ন, আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম, আধুনিকমানের রেষ্ট হাউজ, আইটি পার্ক নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কথা বলেছেন।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগর লবি বলেছেন নির্বাচনে প্রতিশ্রুতিকে প্রাধান্য দিয়েই তিনি এলাকার উন্নয়ন করতে চান।
লবি শপথ নেওয়ার জন্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'জলাবদ্ধতার কারণে ডুমুরিয়ার বিলডাকাতিয়া এলাকার আশপাশের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। স্থায়ী ভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাবেন। প্রয়োজনে আর্ন্তজাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এ সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ডুমুরিয়ায় আমার পৈত্রিক বাড়ি। কাজেই এই অঞ্চলের মানুষ আমাকে মূল্যায়িত করেছে। কাজেই ডুমুরিয়া ও ফুলতলা মানুষকে সাথে নিয়েই সকল উন্নয়ন কাজ করতে চাই।'
আলি আসগর লবি বলেন, 'টেকসই উন্নয়ন, আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম, আধুনিক মানের রেষ্ট হাউজ, আইটি পার্ক নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ করবো।'
দীর্ঘকাল ধরে ডুমুরিয়া-ফুলতলার দুঃখ বলে খ্যাত বিল ডাকাতিয়ায় বসবাস উপযোগী পরিবেশ করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করার ভাবনার কথাও তিনি বলেন।
লবি বলেন, 'এখানে ১২ মাসই ফসল ফলবে, যাতায়াত ব্যবস্থা উপযোগী হবে, আধুনিক সভ্যতার পরশ পাবে। এখানকার উৎপাদিত সবজি বিদেশে রপ্তানি করে বড় অংকের টাকা চাষীরা আয় করে, এ পণ্যকে আমদানিকারকদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করতে সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হবে। সাদা সোনা বলে পরিচিত চিংড়ির মান বাড়াতে সংরক্ষণাগার ও চাষীদের উৎসাহিত করতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
তিনি ভিন্ন মতাদর্শীদের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের প্রতি আস্থা অক্ষুন্ন রাখতে ভিন্নমতের মানুষদের সুচিন্তিত রায়কে তিনি শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে স্মরণ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে লবি হেসে দিয়ে বলেন,' দলীয় চেয়ারম্যান যে দায়িত্বই দেবেন তা যথাযথ ভাবে নিষ্ঠার সাথে পালন করবো।'
এদিকে দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, আলি আসগার লবী মন্ত্রি পরিষদে না আসতে পারলে তাকে বিসিবিতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। তবে তা হলে আরও সময় লাগবে।
এদিকে, লবির জয় লাভের বিষয় নিয়ে খুলনার সর্বত্র আলোচনা চলছে। খোদ জামায়াতও হিসাব মেলাতে পারছে না। কারণ, খুলনার দুটি আসনের মধ্যে এ আসনটিতে জয় লাভের বিষয়ে তারা অত্যান্ত আশাবাদী ছিলেন। কাজেই পরাজয় মানতে পারছেনা জামায়াতের নেতা কর্মীরা।
ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ফুলতলা ও ডুমুরিয়া) আসনে পরাজিত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জনগণ মনে করে, টেম্পারিং বা বিভিন্ন মেকানিজম করে আমাদের হারানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের পরের রাতেই গেজেট প্রকাশ করে জনগণের সে ধারণা আরও গভীর করে তুলেছে। তাই নির্বাচনের এ ফলাফলে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’
এসএম/এমএ