মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার মিঠু চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে উপস্থিতির অভিযোগ তুলে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে শিবচর থানায় ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জুলাই যোদ্ধারা।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিবচর থানার সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানান। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার মিঠু চৌধুরীর উঠান বৈঠকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক আলোচিত নেতাকর্মী প্রকাশ্যে উপস্থিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই উঠান বৈঠকে তারা প্রার্থীকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন—যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
একাধিক সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এভাবে প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এবং নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জুলাই যোদ্ধারা। এরই ধারাবাহিকতায় তারা সংগঠিত হয়ে শিবচর থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেন।
বিক্ষোভ চলাকালে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অর্ধশতাধিক জুলাই চেতনাধারী যোদ্ধা থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের কাছে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা হলে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে পুনরায় থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তারা।
জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শাহাদাত হোসেন মিশন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছি এবং ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে পাঁচ হাজার মানুষ নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করবো। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা স্বৈরাচারী ভূমিকা পালন করেছে, তারা কীভাবে আবার প্রকাশ্যে রাজনীতি করে—এটা শিবচরের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। একটি স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এএইচএস/এসআর