নেত্রকোনায় হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে অপহরণ মামলার আসামি রবিন মিয়াকে (২২) ছিনিয়ে নিল এলাকাবাসী। পরে এলাকাবাসীর সাথে পুলিশ রাতভর দেন দরবার করে হাতকড়া উদ্ধার করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আসামির মা রুবিনা আক্তারকে (৪২) আটক করে নেত্রকোনা সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার নূরুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর থানার ওসি মো. আল মামুন সরকার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রবিন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের নূরুলিয়া গ্রামের মুজিবুর মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার নূরুলিয়া গ্রামের রবিন মিয়ার সাথে দুই বছর ধরে রাজশাহী এলাকার একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা দুজনেই পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করে। রবিন তার পরিবারকে রাজি করিয়ে বাড়িতেই দাম্পত্য জীবন শুরু করে। কিন্তু বিষয়টি মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। মেয়ে বাবা তার এলাকার থানায় এ ঘটনায় রবিনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করে। এ মামলায় রাজশাহীর ওই থানার পুলিশ মঙ্গলবার মেয়েকে উদ্ধার করতে এবং আসামি ধরতে নেত্রকোনায় আসে। পরে সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাতে রবিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রবিন ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হাতকড়া পরায়। রবিনের পরিবারের লোকজনের ডাক চিৎকারে এলাকার লোকজন ঝড়ো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ওই যুগলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ স্থানীয় চল্লিশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমানকে নিয়ে রাতভর দেন দরবার করেন। কিন্তু এলাকাবাসী ওই প্রেমিক যুগলকে ফেরৎ দেয়নি। শেষে কোন উপায় না দেখে স্থানীয়দের সহযোগীতায় হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বুধবার ভোর ৫টার দিকে এলাকার লোকজন চলে যাওয়ার পর রবিনের মা রুবিনা আক্তারকে আটক করে সদর থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যায়।
চল্লিশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, নূরুলিয়া গ্রামের রবিন রাজশাহীর একটি মেয়েকে পরিবারের অমতে বিয়ে করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় পুলিশ রবিনকে আটক করে এবং মেয়েকে উদ্ধার করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন রবিনসহ মেয়েটিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ আমাকে খবর দিলে আমরা তাদেরকে বুঝানোর অনেক চেষ্টা করি। তারপরও এলাকাবাসী রবিনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেনি। শেষে পুলিশ রবিনের মাকে আটক করে।
নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, রাজশাহী এলাকার পুলিশ সদর থানা পুলিশ নিয়ে অপহরণ মামলার আসামি রবিন মিয়াকে আটক করে মেয়েটিকেও উদ্ধার করে। পরে এলাকার লোকজন তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছেলের মা রুবিনা আক্তারকে আটক করে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসআইএফ/এসআর