ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
তিন মাসের পরিশ্রমে মুনাফা অর্জনের আশায় রস বাগানী শহিদ মোল্লা
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম
X

প্রকৃতিতে এখন শীতের তীব্রতা। শীতের সকালে এক গ্লাস খেজুর রসের স্বাদ নিতে কার না ভালো লাগে। শীত আসলেই শিশির ভেজা সকালে রস ভোজনপ্রেমীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে যান খেজুর রস খেতে। ভোর সকাল বা রাত্রিবেলায় খেজুর বাগানে গিয়ে তারা রসের স্বাদ নেন।

তবে ইট-পাথরের নগরে এখন বিশুদ্ধ রস পাওয়া প্রায় দুষ্প্রাপ্য। রস প্রেমীরা বিশুদ্ধ রস খুঁজে ফিরে যান। তেমনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রস প্রেমীরা আসেন খেজুরের বিশুদ্ধ রস পান করতে। মো. শহিদ মোল্লা নামের এক গাছি এই চাহিদা মেটাচ্ছেন। তার বাগানে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। তবে তিনি জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী রস দিতে পারছেন না।

শহিদ মোল্লা, বয়স ৪৬, ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মৃত বজলুর রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি গত ৭–৮ বছর ধরে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে খেজুর বাগান ক্রয় করে মৌসুমি খেজুর রসের ব্যবসা করছেন। এবছর তিনি সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় ১০ শতাংশ জমির খেজুর বাগান ক্রয় করেছেন। ৫০ হাজার টাকায় এই বাগান কেনেন। বাগানে ২৭টি গাছ রয়েছে। সেই গাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০–৬৫ লিটার রস সংগ্রহ করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতি লিটার রসের দাম ১৫০–১৬০ টাকা।

শহিদ মোল্লার খেজুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, রস প্রেমীরা ভোরে মোটরসাইকেল যোগে এসে টাটকা রস কিনে যাচ্ছেন। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার এলাকার ইমরান হোসেন জানান, “আধুনিক নগরায়ণের কারণে দিনে দিনে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। হামছাদীতে এমন খেজুর রস পাওয়া হবে, ভাবিনি। এখানের রসের স্বাদ খুব ভালো। রস সংগ্রহের সময় তার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হয়। বাদুড়ের উপদ্রব থেকে বাঁচাতে প্রতিটি হাঁড়ি ঢেকে রাখা হয়।”

বন্ধুদের সঙ্গে রস পান করতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন যুবক রাকিবুল। তিনি বলেন, “সোনারগাঁওয়ে রস পাওয়া যাবে খবর পেয়ে রায়েরবাগ থেকে এসেছিলাম। আজ পাইনি, অন্য একদিন আবার আসবো।”

শহিদ মোল্লা জানান, হামছাদীর স্থানীয় রাকিব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকায় বাগানটি ক্রয় করেছেন। ডিসেম্বর থেকে রস নামানো শুরু করে এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। আরও ১ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন। প্রতিদিন ভোর এবং রাত ৯টায় গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়।

তিনি বলেন, “আমাদের বাগানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে, তবে চাহিদা অনুযায়ী রস দিতে পারছি না। এখানে খেজুর বাগান কম হওয়ায় চাহিদা বেশি। রসের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের। পুরো বছর এই মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করি। ডিসেম্বর থেকে গাছের পরিচর্যায় কাজ করছি।”

কৃষি অফিসের সহায়তা নিয়ে তিনি বলেন, “আমি কৃষি অফিসের কাউকে চিনি না এবং যোগাযোগও করতে পারিনি।”

সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক জানান, “আমরা নিয়মিত খেজুর বাগানের কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি। বর্তমানে প্রণোদনা কম থাকলেও কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

এইচএমআর/এসআর



Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝