Monday | 15 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 15 June 2026 | Epaper

এই রেলপথে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন

প্রকাশ: বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১, ৯:১১ পিএম   (ভিজিট : ২৭৪)
ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলছে রেল। এতে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্রিটিশ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রেল বিভাগের আওতায় ১৯১৭ সালে চালু হয় বাহাদুরাবাদঘাট হয়ে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব-চট্টগ্রাম রেলপথ।

সেই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যাত্রীসহ পণ্য পরিবহনে দেশের উত্তরাঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগ ছিল রেলপথ। এরমধ্যে ৯৯ কিলোমিটার রেলপথ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। 

বর্তমানে রেলপথটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
  
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, এই রেলপথে মালবাহী ও তেলবাহী ওয়াগন ছাড়াই প্রতিদিন ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন চলাচল করে থাকে। 

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহের প্রায় ৯৯ কিলোমিটারে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিং (সিবিআই) পদ্ধতি না থাকার কারণে প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষ করে দুইদিক থেকে দুইটি ট্রেন একই স্টেশন অতিক্রম (পাসিং) করার সময় বিলম্ব ও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।
 
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নন ইন্টারলক পদ্ধতিতে এ রেলপথে ট্রেন চলাচল করায় ট্রেন স্টপিংয়ে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের তৈরি নন ইন্টারলক ও কম্পিউটার বেইজের বাইরে রেলপথে ট্রেন চলাচল সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সিগনাল দিতে সমস্যা ও বিলম্ব হচ্ছে।

অন্যদিকে ভৈরব রেলজনশং থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ রেলপথের গৌরিপুর স্টেশন পর্যন্ত ৯৯ কিলোমিটার রেলপথে এখনো কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এই রেলপথে মোট ১১টি স্টেশন রয়েছে। এই ৯৯ কিলোমিটার রেলপথ দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

বিশেষ করে রেললাইনে কংক্রিটের স্লিপারের স্থলে কাঠের স্লিপার ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি পর্যাপ্ত পরিমাণ পাথরও নেই। নেই প্রয়োজনীয় সিগনাল বাতি ও নিরাপত্তা।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, এই রেলপথে ছোট বড় মিলিয়ে ৯টি রেলসেতু রয়েছে। এসব রেলসেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে করে গত দেড় বছরে এই রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত, লাইন থেকে বগি পড়ে যাওয়াসহ ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
 
এ রেলপথে চলাচলকারী একাধিক ট্রেনের চালকরা জানান, রেললাইন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা ট্রেনের গতি বাড়াতে পারেন না। কারণ তারা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।

বাধ্য হয়ে তারা ভৈরবের ও ময়মনসিংহের পর ওই রেলপথে ঢোকার সাথে সাথে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেন। তাই কোন ট্রেনই সময়সূচি অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না।
 
কিশোরগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মো. জয়নাল মিয়া জানান, ব্রিটিশ আমলের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথটি অবহেলিত। গত দেড় দশকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রেলপথের আধুনিক উন্নয়ন হয়েছে। 

কিন্তু এ রেলপথটি মান্দাতা আমলের এনালগ পদ্ধতির মধ্যেই পড়ে আছে। অভিজ্ঞ সিগন্যালম্যানদের কারণে বড় বড় দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছে। দ্রুত এই রেলপথকে কম্পিউটার বেইজ ইন্টারলকিং পদ্ধতিতে স্থানান্তরের দাবি জানান জয়নাল মিয়া। 

-এনএন


সম্পর্কিত   বিষয়:  ট্রেন   ঝুঁকি   ভৈরব   ময়মনসিংহ  


LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close