নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির দু’শ বছরের প্রাচীন স্থাপনা ’আন্ধার মানিক’ ভবনের ভেতর গোপন সুড়ঙ্গ পথ নিয়ে আজো রহস্য রয়ে গেছে। ভবন ও সুড়ঙ্গ পথটি এক নজর দেখার জন্য দুর-দুরান্ত থেকে অনেক পর্যটক আসেন। কিন্তু ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় আতঙ্কে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটককরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৮১৩ সালে তৎকালীন বেগমগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া চৌধুরী বাড়িতে রাজা অনুপ কুমার সিংহের আমলে আন্ধার মানিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৫ হাত, প্রস্থ ১১২ হাত, উচ্চতা ১৫ ফুট। ভবনটির দেয়ালের প্রশস্ততা প্রায় ২ হাত। ভেতরের অংশ ৪ ভাগে বিভক্ত। ভবনটি ঢালাই করা ছাদের পুরত্ব প্রায় দেড় হাত। রাজা অনুপ কুমার সিংহের চেহারার আদলে ভবনটির সামনের অংশ নির্মাণ করা হয়। ভবনটির ভেতরে রয়েছে গোপন সুড়ঙ্গ পথ। সুড়ঙ্গ পথটি মাটির নিচ দিয়ে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা স্থানীয়দের আজো অজানা। তবে সুড়ঙ্গটির ভেতরে বাদুর পাখি দেখা যায়। ওই সুড়ঙ্গ পথ নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। সুড়ঙ্গের ভেতরে ঘোর অন্ধকার। ডিল মারলে বা লাঠি দিয়ে ভেতরে আঘাত করলে বাদুর পাখি বের হয়ে আসে।
তবে সুন্দর কারুকার্যে নির্মিত ভবনটি দেখলে যেকোনো মানুষ মুগ্ধ হয়। তবে ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় চৌধুরী বাড়ি কর্তৃপক্ষ ভবনটির মূল গেইটে সাবধানতার নোটিশ লাগিয়ে দিয়েছে। এরপরও আশপাশে কোন পর্যটন স্পট না থাকায় দেশ-বিদেশ থেকে অনেক পর্যটক এই ভবনটি দেখতে এসে আনন্দ উপভোগ করেন। প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষা ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির আন্ধার মানিক ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
স্থানীয় পালপাড়ার বাসিন্দা হোসেন আহম্মদ অবজারভার অনলাইনকে বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় অনেক পর্যটক ভবন ও সুড়ঙ্গ পথটি দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যায়। ভবনটি দেখতে এসে ওপর থেকে ইট-সুরকি পড়ে অনেক পর্যটক আহত হয়।
পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির বংশধর শাহ জাহান চৌধুরী অবজারভার অনলাইনকে বলেন, ভবনটি অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ। নোটিশ দিয়েও পর্যটকদের ঠেকানো যাচ্ছেনা। তাই ভবনটি সংস্কার অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক কামাল অবজারভার অনলাইনকে বলেন, আমি একদিন সরেজমিন যাবো আন্ধার মানিক ভবনটি দেখার জন্য। স্থানীয় ভাবে পর্যটন বিকাশে সহসাই ভবনটি সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-এমএ