
ঈদের ছুটির শেষ দিন শনিবার। শেষ দিনে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। ঈদের পর গত দুই দিনের তুলনায় শনিবার পার্কে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম অবজারভার অনলাইনকে জানান, ঈদের পরের দুই দিনের প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ১০ হাজারের মতো দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল। আর শনিবার পার্কে আনুমানিক ১৪-১৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। যা ঈদের দিনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
সরজমিনে দেখা গেছে, দর্শনাথীদের বেশি ভিড় ছিল কোর সাফারি পার্কে। কোর সাফারি পার্কে বাঘ, সিংহ, ভালুক, হরিণ, জেব্রা, জিরাফ ইত্যাদি আলাদা আলাদা সীমানা প্রাচীরের ভেতর উন্মুক্তভাবে বিচরণ করে। এসব প্রাণী দেখতে দর্শনার্থীদের পার্কের নির্ধারিত মিনিবাসে চড়ে যেতে হয়। যে কারণে এ অংশ দেখতে সৃষ্টি হয় দর্শনার্থীদের লম্বা লাইনের। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থানকালে দেখা গেছে লাইনে ১ হাজার ২শ থেকে ১ হাজার ৫শ দর্শনার্থী অপেক্ষা করছে।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম অবজারভার অনলাইনকে জানান, ঈদের দিন দর্শনার্থী পাঁচ/সাত হাজারের মত হয়েছিল। শনিবার পার্কে আনুমানিক ১৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। ঈদের ছুটির শেষ দিন ছিল শনিবার। তাই অনেকে স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজন নিয়ে সাফারি পার্কে ছুটে এসেছেন উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, ভালুকসহ দেশি, বিদেশী জন্তু-জানোয়ার দেখতে।
গ্রামীণ ব্যাংকের ময়মনসিংহের নিগুয়ারি শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল হাই নান্না অবজারভার অনলাইনকে জানান, শনিবার ঈদের ছুটির শেষ দিন। রোববার থেকে ব্যাংক খুলছে। সারা বছর ব্যাংকের কাজে একঘেয়েমি লাগে যায়। তাই একটু বৈচিত্র আনতেই অফিস খোলার একদিন আগে শনিবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সাফারি পার্কে ঘুরে গেলাম। খুব ভাল লেগেছে। খুব আনন্দ পেয়েছি।

যাত্রাবাড়ি থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. শামীম অবজারভার অনলাইনকে জানান, দীর্ঘদিন ইচ্ছে ছিল সাফারি পার্কে আসার। আজ পূর্ণ হলো। অনেক ভিড়ে, কষ্টের মধ্যেও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেশি-বিদেশী অনেক প্রাণী, পাখি দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। এখানে কোন বখাটেদের উৎপাত নেই। ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
সাফারি পার্ক ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মো. মোকাম্মেল হোসেন অবজারভার অনলাইনকে জানান, এক সময় সাফারি পার্কে দর্শনার্থীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকলেও ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে এখন আর নিরাপত্তাজনিত কোন সমস্যা নেই। পার্কে পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্যুরিস্ট পুলিশ দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছেন।
এবারও কোর সাফারি পার্কে এবং পার্কের প্রধান ফটকে ঢুকতে অতিরিক্ত প্রবেশ ফি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোর সাফারি পার্কে পূর্ণ বয়স্কদের জন্য প্রবেশ ফি ১০০ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা এবং প্রধান ফটকে পূর্ণ বয়ষ্কদের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা মানছেন না।
যাত্রাবাড়ি থেকে আসা সোনিয়া সুলতানা অবজারভার অনলাইনকে জানান, তিনি তার স্কুল পড়ুয়া দুই সন্তান নিয়ে পার্কের মূল ফটকে প্রবেশ পথে মাথাপিছু ৫০ টাকা এবং কোর সাফারি পার্কে ঢুকতে প্রত্যেককেই ১০০ টাকা করে দিতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে কোর সাফারি পার্কের প্রবেশ পথের ইজারাপ্রাপ্ত বেঙ্গল ট্যুরস এবং পাল এন্টারপ্রাইজের টিকেট কাউন্টারের সুপার ভাইজার মো. হাসান তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমরা নিয়ম মেনেই প্রবেশ ফি নিচ্ছি। কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়া হচ্ছে না।
-এমএ