ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
নওগাঁর গান্ধী আশ্রম হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র
✎ সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮, ১১:০১ এএম আপডেট: ২৩.১১.২০১৮ ৩:২৩ পিএম
গান্ধীজির স্মৃতিধন্য কুটি বাড়ি

গান্ধীজির স্মৃতিধন্য কুটি বাড়ি

নওগাঁর মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত আত্রাই উপজেলা। ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের পথিকৃত, অসহিংস ব্যক্তিত্ব ও ভারতবর্ষের জনপ্রিয় নেতা মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত গান্ধী আশ্রম। নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কি. মি. দুরে ও আত্রাই রেল স্টেশনের অদূরে আত্রাই উপজেলায় অবস্থিত এই আশ্রমটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই আশ্রমটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলে দাবি এলাকার সচেতন মহলের।

পূর্বে আশ্রমটিতে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া না লাগলেও বর্তমান সরকার ও ভারতীয় সরকারের আর্থিক সহায়তায় আশ্রমটিতে মহাত্মা গান্ধী ও পিসিরায় মেমোরিয়াল হল গড়ে উঠেছে। একতলা ভবনটি দ্বিতলায় উন্নীত করা হচ্ছে। গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত গুদাম ঘরটিও সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়াও নওগাঁ জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেখানে বাউন্ডারি ওয়াল ও দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি এখানে গান্ধীজির মূরাল অবমুক্ত করা হয়েছে।

ইংরেজ সম্রাজ্যবাদের নির্যাতনের যাঁতাকলে পিষ্ট যখন ভারতবাসী সে সময় ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়ে জনমনে জায়গা করে নেন ভারতবর্ষের কিংবদন্তি মহাত্মা গান্ধী। হিন্দু মুসলমানের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ধর্ম বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি এ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইংরেজদের পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে জনমত সৃষ্টি করেন।

জনশ্রুতি আছে, তিনি এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ১৯২৫ সালে আত্রাই এসেছিলেন। সে সময় তিনি আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন আজকের এই গান্ধী আশ্রমে অবস্থান করে এলাকার অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করেন। একইসঙ্গে এলকাবাসীকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে তিনি এখানে খদ্দর কাপড় তৈরির তাঁত শিল্প স্থাপন এবং খাঁটি সরিষার তেলের জন্য ঘানি স্থাপন করেন।

গান্ধী আশ্রমে নির্মিত হলরুম

গান্ধী আশ্রমে নির্মিত হলরুম

এ বিষয়ে আত্রাই গান্ধী আশ্রমের সেক্রেটারী জেনারেল ডা. নিরঞ্জন কুমার দাস অবজারভার অনলাইনকে বলেন, এক সময় গান্ধী আশ্রমের উন্নয়ন মুখ থুবরে পড়েছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমানকে উপদেষ্টা করে এর উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। তাদের প্রচেষ্টায় ভারতীয় অর্থায়নের এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মহাত্মা গান্ধী ও পিসিরায় মেমোরিয়াল হল। এছাড়াও এখানে প্রতি বছর পালিত হয় গান্ধীর জন্মোৎসব।

গান্ধী আশ্রমের সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম অবজারভার অনলাইনকে বলেন, এমপি সাহেবের আন্তরিকতা ও সাবেক এমপির প্রচেষ্টায় বর্তমানে গান্ধী আশ্রম অনেক এগিয়ে গেছে। এখানে ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনারসহ কুটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এসেছেন। এখানে একটি পুর্ণাঙ্গ দাতব্য চিকিৎসালয়, কৃষি খামার, মৎস্য খামারসহ বেশ কিছু স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু এ গান্ধী আশ্রম উপজেলা সদরের একেবারেই সন্নিকটে, রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ও মনোরম পরিবেশে। তাই এখানে উল্লেখিত স্থাপনাগুলো নির্মিত হলে ও প্রয়োজীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছানাউল ইসলাম অবজারভার অনলাইনকে বলেন, ভারতবর্ষের জনপ্রিয় নেতা মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিধন্য গান্ধী আশ্রম এখন আর অবহেলিত পল্লী নেই। উন্নয়নের ছোঁয়ায় একটি পর্যটন কেন্দ্রে রুপান্তরিত হতে চলেছে। এখানে আধুনিক মডেলের ডাক বাংলো নির্মাণ, বিভিন্ন ভাস্কর্য নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা গান্ধী আশ্রমের পাশে বসার সুদৃশ্য বসার জায়গা তৈরী করেছি। সেই সঙ্গে পানির ফোয়ারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম অবজারভার অনলাইনকে বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই বিখ্যাত আশ্রমটি ছিলো ধূলোর মাঝে ডুবে। কিন্তু বর্তমান উন্নয়নের সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভারত সরকারের সহায়তায় এই গান্ধী আশ্রমটিতে লাগিয়েছি আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে এখনোও এখানকার অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। আগামীতে এই উন্নয়নের সরকার ক্ষমতায় এলে অবশ্যই আমি এই আশ্রমটিকে আধুনিক মানসম্মত ও আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্রে উন্নীত করার জন্য প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাবো। পূর্বে এই আশ্রমটিতে কিছুই ছিলো না বলা যায়। কিন্তু বর্তমানে এখানে অনেক কিছু নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে আমি অনেক নামাদামী বিদেশিদের এনেছি। তারা এই আশ্রমটি দেখে খুবই খুশি হয়েছেন এবং এখানকার উন্নয়নের জন্য তারা সব সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন আমাকে। তাই আগামীতে এখানে আরও অনেক কিছু করার ইচ্ছে আছে বলে তিনি জানান।

-এমএ

Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝