ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয়শিবির ও নিচু এলাকায় পানি জমে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু ভবন নতুন করে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে গাজার বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে তাঁবুতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবারের বিছানা, কম্বল ও কাপড়চোপড় ভিজে গেছে। প্রবল বাতাসে তাঁবু উড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শীত ও বৃষ্টির মধ্যে শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশ্রয়হীন পরিবারগুলো।
উত্তর গাজার আল-মিনা আশ্রয়শিবিরে বৃষ্টির পানিতে বহু তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি পরিবার বসবাস করছে। কয়েকটি শিবিরে পানির উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ শত শত সহায়তার আবেদন পেয়েছে।
বৃষ্টিপাতের কারণে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরেও উদ্বেগ বেড়েছে। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে পানি ঢুকছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হামলার শিকার একটি ভবনে বসবাসকারী ৫৪ বছর বয়সী নাসের আল-হাজ্জ জানান, ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘরে প্রবেশ করছে। প্রকৌশলীরা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাস করছেন। এর মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছেন।
এ ছাড়া গাজায় প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪ হাজারের বেশি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে ফেলা প্রয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার নালা এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ২১২ কিলোমিটার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আটটি পানি নিষ্কাশন পাম্পকেন্দ্রও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যমান ব্যবস্থা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও মাত্র ২০ শতাংশ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করতে সক্ষম।
পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, শুধু গাজা শহরেই ২ হাজারের বেশি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, আশ্রয়কেন্দ্র ও শরণার্থীশিবিরগুলোতে প্রয়োজনীয় তাঁবু, ত্রিপল ও অন্যান্য সরঞ্জামের সংকট রয়েছে।
যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে এবার শীত ও বৃষ্টির প্রকোপে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
আলজাজিরা / এফএস