ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ফুলবাড়ীতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে দুর্ভোগে ৮ গ্রামের মানুষ, ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
X

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের অন্তত আট গ্রামের হাজারো মানুষ। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে কিংবা সাঁতরে নদী পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো দিয়েও চলাচল করছেন।

এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। নদী পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় দ্রুত সাঁকোটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটির দক্ষিণ পাশের মাঝামাঝি প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। ফলে সাঁকোটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। কেউ বুকসমান পানিতে হেঁটে, কেউ সাঁতরে নদী পার হচ্ছেন। আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ দিয়ে পারাপারের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার দশক ধরে এ নদী পারাপারে ছোট ডিঙি ও মাঝারি নৌকা ব্যবহার করতেন দুই পাড়ের মানুষ। করিমের ঘাট ও নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত স্থানে ইজারাদারের মাধ্যমে নৌকায় পারাপার হতেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে নদীর প্রশস্ততা কমে আসায় স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে প্রায় দেড় যুগ ধরে এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করছেন।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে স্থানীয় উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করা হতো। তবে দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই থেকে তিন মাস আগে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ।

সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজারসহ পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী মাথায় বাদামের বোঝা নিয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে নদী পার হচ্ছিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘খালি ছবি তোলেন বাহে। দুই-তিন মাস ধরে এত কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেননি। ছেলেমেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমরা আর এ দুর্ভোগ সহ্য করতে পারছি না। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হোক।’

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আকাশ মাহমুদ ও কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, এ পথ দিয়ে এলাকার হাজারো মানুষ নিয়মিত নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট বাজারে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া এলাকার দেড় থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে। দ্রুত মেরামত না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটবে।

বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সবুজ মিয়া এবং কলেজশিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও মঈনুদ্দিন জানায়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় কখনো সাঁতরে, আবার কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো পার হতে হয়। পারাপারের সময় অনেকেই পড়ে গেছেন এবং বড়রাও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানিয়েছে তারা।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য খামারি আতাউর রহমান রতন বলেন, বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোটি দুই পাড়ের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। দুই-তিন মাস আগে এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। অনেকে বুকসমান পানিতে নেমে পারাপার করছেন। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত অথবা টেকসইভাবে নতুন সাঁকো নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী জানান, ভেঙে যাওয়া সাঁকোটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এটি নির্মাণ করা হলে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সাঁকোটি পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসি/আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝