মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গভীর রাতে একটি মাজারে ঢুকে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাহেদ বেপারীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
পরে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা।
নিহত জাহেদ বেপারী আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমানে তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনেরা মরদেহ মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আসবেন।
নিহতের স্ত্রী বেবী বেগম জানান, অভিযুক্ত ফরিদ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাঁরা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে এলাকায় নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।
জাহেদ ও ফরিদ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্যের সমর্থক ছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারে ওরস আয়োজন নিয়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। মাজারকেন্দ্রিক বিরোধের জেরেও হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী বোনসহ তিন বোনের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমরা তিন বোন চিরদিনের জন্য এতিম হয়ে গেলাম। চোখের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। আমার প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমা তাকিয়ে বাবার হত্যাকাণ্ড দেখেছে। আমরা এসব স্মৃতি ভুলে যাব কীভাবে? আমরা তো পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদ বেপারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা ও মাদক মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। পূর্ববিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এমএইচ/আরএন