ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
নারীর ক্ষমতায়নে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম
X

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেছেন, নারীর অগ্রগতি শুধু কতজন নারী শীর্ষ পদে পৌঁছেছেন, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।

বরং আরও কত নারী তাদের অনুসরণ করার সুযোগ পাচ্ছেন, বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের নারীদের জন্য সুযোগ কতটা উন্মুক্ত হচ্ছে এবং তাদের নেতৃত্ব কর্মক্ষেত্র ও সমাজে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তার ওপরই প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘ওমেন লিডারশিপ সেমিনারে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সেমিনারে নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী।

অথচ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বিপুলসংখ্যক নারী এখনো অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত হতে পারছেন না। বাল্যবিয়ে, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব নারীদের সম্ভাবনা বিকাশের পথে বড় বাধা।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের কোটি কোটি নারী এখনো অর্থনীতির মূলধারায় পর্যাপ্তভাবে যুক্ত হতে পারছেন না।

শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ছাত্রী ঝরে পড়ে। উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের হারও মাত্র ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। তাই বিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের ধারাবাহিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নারীদের সাক্ষরতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্ন করা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন।

দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে তারা যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, জবাবদিহি, সহমর্মিতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার মানসিকতা অর্জন করছে।

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন নারীর আয়, সঞ্চয় ও নিজস্ব আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তার ব্যক্তিগত সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের সামগ্রিক সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু আয়ের বিষয় নয়, বরং নিজের ভবিষ্যৎ নিজে গড়ে তোলার ক্ষমতা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান বলেন, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি নারী ও শিশুর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নারীদের কর্মজীবন নির্বিঘ্ন করতে দেশজুড়ে দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, পারিবারিক দায়িত্ব কোনো নারীর ক্যারিয়ার ও পেশাগত অগ্রগতির পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন এবং দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরে আসার সুযোগও নারীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

প্রযুক্তির পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনের অর্থনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী হয়ে উঠবে।

জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর অগ্রগতি নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মেয়েদের বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, নারীদের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি তাদের অগ্রগতির পথে থাকা অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে, সুযোগকে নেতৃত্বে এবং নেতৃত্বকে বাংলাদেশের জন্য টেকসই প্রভাবে রূপান্তর করা সম্ভব।

অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অ্যামচেম ও মার্কিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া মডারেটর ও প্যানেলিস্টদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্যানেল স্পিকার ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের অ্যাক্টিং ডেপুটি চিফ অব মিশন তৃশিতা মোওলা, শেভরন বাংলাদেশের সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং এবং ওরাকলের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা।

টিআই

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝