রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের তেথুলিয়া পিরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ অ্যান্ড ভোকেশনালের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে শাখাটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। অথচ এই তিন বিভাগে কর্মরত রয়েছেন ১২ জন শিক্ষক। এমন ফলাফল ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখা থেকে তিনজন এবং কারিগরি বিএম শাখা থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে কারিগরি শাখা থেকে ২৮ জন উত্তীর্ণ হলেও উচ্চ মাধ্যমিক শাখার তিন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি মিলিয়ে মোট চারটি শাখা রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শাখার মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কর্মরত রয়েছেন ১২ জন শিক্ষক।
তবে শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এমপিওভুক্ত নন। নিয়মিত কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি বেতন-ভাতাও পান না। বিনা বেতনে তাঁরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বলেন, “কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় পাসের হার শূন্য হলো। এর প্রধান কারণ শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না। শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীদের অনীহার কারণে এমন ফল হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের পথচলা, ১২ জন শিক্ষক এবং মাত্র তিনজন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস না করার ঘটনায় শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এএইচ/আরএন