শেরপুরে পাখি শিকারের দায়ে নেজামুল নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাখি শিকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে শিকারের সরঞ্জামসহ ১২টি বক ও ছয়টি বেগুনি কালেম উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ও কামারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের যৌথ উদ্যোগে অভিযানটি চালানো হয়।
অভিযানকালে কামারিয়া ইউনিয়নের আলীনাপাড়া গ্রাম থেকে নেজামুলকে আটক করা হয়। এ সময় আটটি হাল (পাখি শিকারের সরঞ্জাম), ১৪টি ফাঁদ, ১২টি বক ও ছয়টি বেগুনি কালেম উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন। সাজা শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।
একই দিন বিকেলে উদ্ধার করা বক ও বেগুনি কালেমগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
এতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনিসহ স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় পাখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাখি শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
এসএস