সমুদ্রের রহস্যময় প্রাণী জেলিফিশ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
সমুদ্রের অন্যতম রহস্যময় ও আকর্ষণীয় প্রাণী জেলিফিশ। দেখতে অনেকটা স্বচ্ছ ছাতার মতো হলেও সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে হাড়, মস্তিষ্ক কিংবা হৃদ্যন্ত্র না থাকলেও কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর সমুদ্রে টিকে আছে এই প্রাণী।
প্রতি বছর ৩ নভেম্বর বিশ্ব জেলিফিশ দিবস পালন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে জেলিফিশের গুরুত্ব, জীবনচক্র এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জেলিফিশ মূলত সামুদ্রিক প্রাণী। এদের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতায় এদের বসবাস। কিছু প্রজাতি অগভীর পানিতে থাকে, আবার কিছু প্রজাতি গভীর সমুদ্রেও বিচরণ করে।
জেলিফিশের শরীরে মস্তিষ্ক না থাকলেও স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে তারা পরিবেশের পরিবর্তন বুঝতে পারে। শিকার ধরা ও আত্মরক্ষার জন্য তাদের শুঁড়ে বিশেষ দংশনকারী কোষ থাকে। এসব কোষের সাহায্যে ছোট মাছ, প্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করে।
সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলেও জেলিফিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামুদ্রিক কচ্ছপ, সূর্যমাছসহ বিভিন্ন প্রাণী জেলিফিশ খেয়ে বেঁচে থাকে। অন্যদিকে জেলিফিশ ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এভাবে সমুদ্রের খাদ্যজালের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে তারা।
তবে জেলিফিশের অতিরিক্ত বিস্তার সামুদ্রিক পরিবেশ ও মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত মাছ শিকার এবং পানিদূষণের কারণে কিছু এলাকায় জেলিফিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। কখনো কখনো এদের বড় দল মাছ ধরার জাল ও উপকূলীয় স্থাপনাতেও সমস্যা তৈরি করে।
বাংলাদেশের কক্সবাজার ও কুয়াকাটা উপকূলেও বিভিন্ন সময়ে জেলিফিশ ভেসে আসার ঘটনা দেখা গেছে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এসব প্রাণীর প্রজাতি শনাক্ত করা এবং তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব জেলিফিশ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো এই প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণী সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানো। একই সঙ্গে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
জেলিফিশ পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রাণীগোষ্ঠীগুলোর একটি। এদের শরীরে হাড়, মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্র নেই।
এফএস