জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে আফগানিস্তান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তিনটি ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে রশিদ খানের দল। ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই আফগানদের সামনে কার্যত অসহায় ছিল জিম্বাবুয়ে।তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানদের একচ্ছত্র আধিপত্য, কোনো ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
গত ২৭ অক্টোবর সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩৭ রানের জয় দিয়ে মিশন শুরু করে আফগানিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ১৭৭ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে ১৯.১ ওভারে ১৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
আফগানিস্তানের হয়ে ইজাজ আহমদ আহমদজাই ২২ বলে ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক রশিদ খান মাত্র ১০ বলে করেন ৩০ রান। বল হাতে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন রশিদ।
২৯ অক্টোবর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও আফগানদের দাপট অব্যাহত থাকে। ১৯ রানের জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে তারা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় আফগানিস্তান।
দলের হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। মাত্র ৫০ বলে ৫টি চার ও ১২টি ছক্কায় ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ইজাজ আহমদ আহমদজাই করেন ৫২ রান। জবাবে সিকান্দার রাজার অপরাজিত ১০৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসও জিম্বাবুয়েকে জেতাতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০২ রানেই থামে তাদের ইনিংস। ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরা হন ওমরজাই।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে এসে আরও বড় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ১ নভেম্বর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪.৩ ওভারে ৭৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি। রায়ান বার্ল করেন সর্বোচ্চ ৩০ রান। আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান নূর আহমদ। মাত্র ১৩ রান দিয়ে শিকার করেন ৫ উইকেট।
জবাবে মাত্র ৮.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮১ রান তুলে নেয় আফগানিস্তান। ইব্রাহিম জাদরান অপরাজিত ২৫ এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই অপরাজিত ১৮ রান করেন। ফলে ৭১ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় পায় আফগানরা।
সিরিজের তিন ম্যাচের ফলাফল:
- প্রথম টি-টোয়েন্টি: আফগানিস্তান ৩৭ রানে জয়ী।
- দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি: আফগানিস্তান ১৯ রানে জয়ী।
- তৃতীয় টি-টোয়েন্টি: আফগানিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী।
তিন ম্যাচের সিরিজে আফগানিস্তানের এই একচ্ছত্র আধিপত্য তাদের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্যেরই প্রমাণ দিয়েছে। ব্যাট হাতে ওমরজাই ও ইজাজের বিধ্বংসী পারফরম্যান্স, রশিদ খানের কার্যকর অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং নূর আহমদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পুরো সিরিজেই কোণঠাসা ছিল জিম্বাবুয়ে। শারজাহতে এমন দাপুটে সিরিজ জয় নিঃসন্দেহে আফগানিস্তানের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
এফএস