ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কের জেরে দেশটির কয়েকটি বড় ব্র্যান্ড তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। পাশাপাশি স্পেনের ফুটবল লিগ লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচারও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
সোমবার রাতে লন্ডনে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় এমবাপ্পেকে ঘিরে এ বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। একটি সাক্ষাৎকারে নিজের সবচেয়ে বেশি হাসি পায় এমন একটি ইন্টারনেট মিম নিয়ে রসিকতা করেন তিনি। ওই মিমে তাঁর মুখ চীনের সাবেক নেতা মাও সে তুংয়ের মতো দেখতে এক ব্যক্তির ছবির ওপর বসানো ছিল। বিষয়টি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এমবাপ্পে তাঁর মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্যটিকে অপরিণত ও বিবেচনাহীন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং স্পেনের ফুটবল লিগ লা লিগাও ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কথা ও আচরণের বিরুদ্ধে দেশটির সমাজের বিভিন্ন মহল স্বাভাবিকভাবেই একযোগে প্রতিবাদ জানাবে।
তবে ক্ষমা চাওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ কমেনি। অনেক ব্যবহারকারী এমবাপ্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। চীনা দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেংনিউসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এমবাপ্পের ওয়েইবো অ্যাকাউন্ট অনুসরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে বিতর্কের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, চীনের অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এমবাপ্পে ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন, তা জানতে পারছেন না। দেশটির কঠোর ইন্টারনেট সেন্সরশিপের কারণে মাও সে তুংয়ের নাম ও বিতর্কিত মিমের উল্লেখ অনেক ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ মিমের ছবি ঝাপসা করে কিংবা নাম গোপন রেখে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।
মাও সে তুং চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর শাসনামলে গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ, প্রাণহানি ও সহিংসতা ঘটেছিল। তবে চীনে এখনো তিনি অত্যন্ত সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।
চীনের বাইরের অনেক ব্যবহারকারী অবশ্য এমবাপ্পের মন্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, একজন স্বৈরশাসককে নিয়ে রসিকতা করায় ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় বাজার চীনে এ বিতর্ক এমবাপ্পের বাণিজ্যিক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলেছে। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে লা লিগার খেলা পুনরায় সম্প্রচার করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এফএস