মোংলার পশুর নদে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবাহী কার্গো জাহাজের অবস্থান দুই দিনেও শনাক্ত করা যায়নি।
বনবিভাগ ও জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও জাহাজটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান খুঁজে পাননি। ফলে এখনো শুরু করা যায়নি উদ্ধার অভিযান।
তবে ঘটনাস্থলে কয়লা বা তেল ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। জাহাজটি মূল নৌ চ্যানেলের বাইরে ডুবে যাওয়ায় নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
গত সোমবার রাতে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ‘এমভি ফুলবাড়ী’ নামের কয়লাবাহী কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। এ সময় জাহাজে থাকা নয়জন কর্মী সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে আশ্রয় নেন। ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. সালাহ উদ্দিন কবির জানান, ডুবে যাওয়া জাহাজটি পশুর নদ থেকে অপসারণের জন্য মালিকপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে চিঠি দিয়েছে বন্দরের হারবার বিভাগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হলেও জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীর গভীরতা বেশি হওয়া এবং পরিদর্শনের সময় জোয়ার থাকায় পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। আশপাশে কয়লা বা তেল ছড়িয়ে পড়ার কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি।
তিনি জানান, কয়লা ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরবনের পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করছে বনবিভাগ।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েও জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। ডুবুরিদল এ কাজে চেষ্টা চালাচ্ছে। ভাটার সময় জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পরিদর্শনে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। জাহাজটিতে বড় আকারের কয়লা ছিল, যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় কার্গো জাহাজটির মাস্টার বাদী হয়ে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, কার্গো জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানিয়া শিপিং লাইনসের প্রতিনিধি ইব্রাহিম ব্যাপারী জানান, জাহাজটিকে ধাক্কা দেওয়া তেলবাহী ট্যাংকারের মালিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
-টিএস